রাউজান এখনো ফ্যাসিস্টমুক্ত হয়নি গিয়াসউদ্দিন কাদের চৌধুরী

নির্বাচন সুষ্টু হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান গিয়াসউদ্দিন কাদের চৌধুরী। তবে তিনি সীমান্তের ওপার থেকে অস্ত্র আসা এবং প্রশাসনের ভেতরে ফ্যাসিবাদের অনুসারীদের সক্রিয়তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ও রাউজান এখনো ফ্যাসিস্টমুক্ত হয়নি।শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) বিকেলে চট্টগ্রামের গুডস হিলের বাসভবনে এক সংবাদ সম্মেলন ডেকে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।এই সময় তিনি আরো বলেন, ফ্যাসিস্টদের হাতে প্রচুর টাকা আছে, বিভিন্ন জায়গায় সেই টাকার অপব্যবহার হচ্ছে ।
এখানে কে কোথায় কী করছে, তা সবার কানেই পৌঁছে যায়।সম্প্রতি রাউজানে যুবদলের এক কর্মী নিহত হওয়ার ঘটনায় তিনি বলেন, ওই ব্যক্তি ক্যান্সারে আক্রান্ত ছিলেন এবং চিকিৎসার জন্য তাঁকে সহায়তা করা হয়েছিল। তার ঘরে ঢুকে তাকে হত্যা করা হয়েছে। এ ধরনের ঘটনা শুধু ফ্যাসিবাদের সন্ত্রাসীদের দায় নয়, প্রশাসনের ভেতরেও তাদের অনুসারীরা ঘাপটি মেরে আছে।
নির্বাচন প্রসঙ্গে গিয়াসউদ্দিন কাদের চৌধুরী বলেন, বর্তমান নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রমে তিনি সন্তুষ্ট। অভিযোগ গ্রহণ ও দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার সংস্কৃতি আগের ২০ বছরে দেখা যায়নি। কয়েকজন ওসি বদলির ঘটনাকে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরে বলেন, এটি একটি ইতিবাচক পরিবর্তন। তবে অস্ত্র পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে তিনি বলেন, একদিকে অস্ত্র উদ্ধার হচ্ছে, অন্যদিকে সীমান্ত দিয়ে অস্ত্র ঢুকছে।
মনোনয়ন প্রসঙ্গে তিনি জানান, দলীয় সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হবে এবং দল যাকে মনোনয়ন দেবে, তিনি তার পক্ষেই কাজ করবেন। বিকল্প মনোনয়নের বিষয়টিকে কৌশলগত সিদ্ধান্ত হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।রাউজানে সহিংসতার দায় নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ঘটনার পেছনে কারা জড়িত, তা তদন্তের মাধ্যমে বেরিয়ে আসা উচিত।
তিনি লিখিত বক্তব্য বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর আওয়ামী ফ্যাসিস্টদের গুম, খুন, ধর্ষণ, অকথ্য নির্যাতনের যাতাকলে পৃষ্ট ছিল আমার প্রাণের রাউজান। ৫ আগষ্ট ২০২৪ এ ছাত্র-জনতার অভূতপূর্ব বিপ্লবের মাধ্যমে রাউজান আওয়ামী ফ্যাসিস্ট মুক্ত হয়েছিল বলে সবাই ভেবেছিল। কিন্তু দুর্ভাগ্য, সমগ্র বাংলাদেশ ফ্যাসিস্ট মুক্ত হলেও আমার প্রানের রাউজান আওয়ামী ফ্যাসিস্ট মুক্ত হয়নি আজও। ৫ আগস্ট ২০২৪ এর পূর্বে দীর্ঘ ১৭ বছর রাউজানের সাধারন জনগণসহ প্রকৃত ও সাচ্চা বিএনপির নেতা-কর্মী-সমর্থকরা দুবির্ষহ জীবন যাপন করেছিলেন। শুধুমাত্র আমার নেতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, আমার নেত্রী সদ্যপ্রয়াত মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া ও আগামীর রাষ্ট্রনায়ক জনাব তারেক রহমান এবং আমার অনুসারী হওয়ার কারনে রাউজানে বিএনপি’র প্রকৃত আদর্শ লালনকারী আমার নেতা-কর্মীদের ব্যাপক নির্যাতন, পিটিয়ে এবং গুলি করে খুন, মিথ্যা মামলা, অস্ত্র দিয়ে গ্রেফতার করানো সহ জুমার নামাজের সময় পবিত্র মসজিদ থেকে হাজারো মুসল্লির সামনে টেনে হেঁচড়ে বের করে হত্যা করা হয়েছে। বিএনপি’র একজন সাধারন সমর্থক পর্যন্ত রাউজানে থাকতে পারে নি আওয়ামী ফ্যাসিস্টদের অমানুষিক নির্যাতনের কারণে। সেই সময় প্রকৃত বিএনপি’র আদর্শ লালনকারী আমার নেতা-কর্মী-সমর্থকরা মা-বাবার দাফন-কাফন-জানাজা পর্যন্ত পড়তে পারেনি। পড়তে পারেনি ঈদের নামাজ, করতে পারেনি শবদাহ, করতে পারেনি শারদীয় দুর্গোৎসব। প্রিয় সাংবাদিকবৃন্দ সেই দুর্বিষহ সময় রাউজানে বিএনপি দাবিদার ক্ষুদ্রাতি ক্ষুদ্র একটি মহল তৎকালীন আওয়ামী ফ্যাসিস্টদের সাথে আতাঁত করে রাউজানে অবস্থান করা সহ ব্যবসা-বাণিজ্য প্রসারের পাশাপাশি নির্বিঘ্নে এবং নিরাপদে জীবন যাপন করেছিল। শুধু তাই নয়, চট্টগ্রাম শহরে বাধ্য হয়ে অবস্থানকারী আমার নেতা-কর্মী-সমর্থকদের বাসা- বাড়ির ঠিকানা, শ্বশুর বাড়ীর ঠিকানা পর্যন্ত আওয়ামীদের প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী পুলিশকে সরবরাহ করেছিল। চট্টগ্রাম শহরে অবস্থান করা ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি নুরুল আলম নূরু কে রাতের আঁধারে বাসা থেকে পুলিশ দিয়ে তুলে নিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছিল, পিটিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছিল আমার কর্মী হেজা হাসেম কে, মসজিদ চত্বরে মুসল্লিদের সামনে হত্যা করা হয়েছিল মুসাকে। আহত করা হয়েছিল অসংখ্য নেতাকর্মী সমর্থককে। সেই অভিশপ্ত সময়ে বিএনপি দাবীদার আওয়ামীলীগের ঐ “বি” টীম বিবৃতি তো দূরে থাক, উল্টো আওয়ামীদের সাথে উল্লাসে মেতে উঠেছিল ।

২০১৭ সালে পবিত্র রমজান মাসে ফটিকছড়ির এক জনসভায় ফ্যাসিস্ট নেত্রী শেখ হাসিনা কে নিয়ে দেওয়া আমার অপ্রিয় সত্য ভাষণকে কেন্দ্র করে ইফতারের সময় আমার চট্টগ্রাম শহরস্থ এই “গুডস হিল” বাসভবনে ব্যপক ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছিল। আমার বিরুদ্ধে চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় একের পর এক মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছিল । মিথ্যে মামলায় আমি ৬ মাস কারা যন্ত্রণা ভোগ করেছিলাম । মাত্র ২০ মিনিটের শুনানি শেষে আমাকে আত্মপক্ষ সমর্থনের কোন প্রকার সুযোগ না দিয়ে জজ সাহেব মাত্র ৪ জন সাক্ষীর মিথ্যে স্বাক্ষীর ভিত্তিতে মিথ্যে মামালায় আমাকে ৩ বছরের কারাদন্ড দেওয়া হয়েছিল । সেই দিনও
আওয়ামীলীগের দালাল খ্যাত ওই চিহ্নিত গোষ্ঠীটি নীরব থেকে আওয়ামীদের সাধুবাদ জানিয়েছিল, উল্লাসে মেতে উঠেছিল। মিথ্যে মামলায় হত্যা করা হয়েছিল আমার শ্রদ্বেয় বড় ভাই, উপমহাদেশের প্রখ্যাত পার্লামেন্টারিয়ান শহীদ মরহুম সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীকে। আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে রাউজানে আমার গাড়িতে ৪ বার গুলিবর্ষণ এর পাশাপাশি হামলা করা হয়েছিল। হাজারো জুলুম-নির্যাতন সত্বেও ইসলামী মূল্যবোধ এবং বাংলাদেশী জাতীয়তারবাদী আদর্শের রাজনীতি থেকে আমাকে একচুল পরিমাণও দূরে সরিয়ে রাখতে পারেনি আওয়ামী ফ্যাসিস্ট সরকার।