
দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদার করার লক্ষ্যে বাংলাদেশে নিযুক্ত দক্ষিণ কোরিয়ার মান্যবর রাষ্ট্রদূত চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস.এম. মনিরুজ্জামানের সাথে অদ্য ০৮ জুলাই এক সৌজন্য সাক্ষাতকারে মিলিত হন। উচ্চপর্যায়ের এই বৈঠকে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি, বাণিজ্য লজিস্টিকস সহজীকরণ এবং বাংলাদেশে বিনিয়োগের নতুন দিগন্ত উন্মোচনের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
আলোচনাকালে উভয় পক্ষই অর্থনৈতিক সম্পর্ককে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে একসঙ্গে কাজ করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের সাথে কাজ করার গভীর আগ্রহ প্রকাশ করে উল্লেখ করেন যে, এই দেশের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে এবং একদিন বাংলাদেশ অর্থনৈতিক দিক থেকে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম সেরা রাষ্ট্রে পরিণত হবে।
বৈঠকের অন্যতম প্রধান বিষয় ছিল বৈশ্বিক পুঁজি আকর্ষণের জন্য বাণিজ্য অবকাঠামোর আধুনিকীকরণ। চবক চেয়ারম্যান জোর দিয়ে বলেন, বন্দর এবং কাস্টমস এর অটোমেশন ও ডিজিটালাইজেশন অত্যন্ত জরুরী। উভয় পক্ষই একমত হন যে, এই দুটি সংস্থার যৌথ প্রচেষ্টা ব্যবসা করার খরচ ও জটিলতা (Ease of doing business) উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনবে, যা দেশে সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ (FDI) বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রাখবে।
বাংলাদেশকে একটি প্রধান আঞ্চলিক লজিস্টিক হাব হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে মাননীয় চেয়ারম্যান বেশ কিছু দূরদর্শী উদ্যোগের কথা রাষ্ট্রদূতের কাছে তুলে ধরেন, যার মধ্যে রয়েছে: বিশ্বমানের উৎপাদকদের উৎসাহিত করতে বিশেষায়িত ফ্রি ট্রেড জোনের পাশাপাশি রেল, সড়ক ও নৌপথে পণ্য পরিবহন আরও সহজ করা, ফল রপ্তানির উচ্চ সম্ভাবনা এবং বাংলাদেশের গভীর সমুদ্রে মৎস্য আহরণের (Deep-sea fishing) সুযোগ কাজে লাগানো, একটি প্রতিযোগিতামূলক ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরির লক্ষ্যে শুল্ক এবং কর কাঠামোর আধুনিকীকরণ ও সংস্কারের বিষয়ে আলোচনা। বাংলাদেশের দ্রুত বর্ধনশীল শিল্প সক্ষমতার স্বীকৃতি দিয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত জানান যে, তাঁর দেশ বাংলাদেশের জাহাজ নির্মাণ (Shipbuilding) খাত এবং ভারী শিল্পে ব্যাপক বিনিয়োগ করতে গভীরভাবে আগ্রহী। এই অংশীদারিত্ব বাংলাদেশে উন্নত প্রযুক্তিগত দক্ষতা নিয়ে আসবে এবং বিপুল কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে বলে আশা করা হচ্ছে। উপরন্তু প্রাকৃতিক ভৌগলিক অবস্থানগত কারনে মিরসরাই, সন্দ্বীপ হতে কক্সবাজার পর্যন্ত সমুদ্র অঞ্চলে দক্ষিণ কোরিয়ার বুসান এবং জাপানের কোবে ও ওসাকা এর আদলে মেরিটাইম ইকোনোমিক করিডোর হিসেবে উন্নয়নের অপার সম্ভাবনা রয়েছে বলে বিশেষভাবে আলোচনা হয়। দক্ষিন কোরিয়ার প্রতিনিধি দল ও চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ এই কৌশলগত লক্ষ্যগুলোকে বাস্তবে রূপ দিতে পারস্পরিক যোগাযোগ ও সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।
বন্দরের কার্যক্রম এলাকাগুলো সরজমিনে পরিদর্শনের মাধ্যমে রাষ্ট্রদূতের সফর সমাপ্ত হয়। প্রতিনিধি দলটি চট্টগ্রাম বন্দরের সার্বিক অগ্রগতি, ব্যবস্থাপনা দক্ষতা এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নে গভীর সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।