
পটিয়ার ৯নং (ক) বড়লিয়া ইউনিয়ন বিএনপির নতুন কমিটি গঠন ঘিরে তৃণমূলে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা, পুরনো নেতৃত্বের হিসাব এবং নতুন নেতৃত্ব নিয়ে নানা সমীকরণ।সভাপতি পদে আলোচনায় থাকা সাবেক ছাত্রনেতা ও বিএনপি নেতা মোঃ শাহ আলম চৌধুরী এবার সামনে আনছেন তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলার ধারাবাহিক হিসাব।
শাহ আলম চৌধুরীর নিজের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১৯৮৬ সালে জঙ্গলখাইন উচ্চ বিদ্যালয়ে ছাত্ররাজনীতির মাধ্যমে তাঁর রাজনৈতিক জীবনের সূচনা।১৯৮৮ সালে পূর্ব বড়লিয়া শহীদ জিয়া স্মৃতি সংসদের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এবং ১৯৮৮–৮৯ সালে হুলাইন ছালে-নূর কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালনের দাবি করেন তিনি।
এরপর ১৯৯১ সালে বড়লিয়া ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক এবং পরবর্তী সময়ে পটিয়া থানা ও দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের বিভিন্ন সাংগঠনিক দায়িত্বে থাকার কথা জানান শাহ আলম।এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সময় পশ্চিম পটিয়া ছাত্র ঐক্যের সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালনের দাবি রয়েছে তাঁর।
শাহ আলমের ভাষ্য অনুযায়ী, ১৯৯১ থেকে ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত ছাত্রদলের রাজনীতিতে মাঠপর্যায়ে সক্রিয় থেকে বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে অংশ নেন তিনি।এরপর তাঁর রাজনৈতিক জীবনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় শুরু হয়—১৯৯৯ থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত বড়লিয়া ইউনিয়ন যুবদলের দায়িত্ব পালন করেন বলে তিনি জানিয়েছেন।
শুধু ইউনিয়ন পর্যায়েই নয়, ২০০৪ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত পটিয়া উপজেলা যুবদলের দায়িত্ব পালন এবং ওই সময়ের বিভিন্ন রাজনৈতিক আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় থাকার কথাও তিনি নিজের বক্তব্যে উল্লেখ করেছেন।অর্থাৎ তাঁর দেওয়া রাজনৈতিক টাইমলাইন অনুযায়ী, ছাত্রদল থেকে যুবদল—দীর্ঘ প্রায় দুই দশক ধরে তিনি মাঠের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকার দাবি করছেন।
এরপর ২০০৬ সালের পর মূলধারার বিএনপির রাজনীতিতে আরও সক্রিয় হওয়ার কথা জানান শাহ আলম চৌধুরী।
২০০৯ সালে বড়লিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়ে পরপর দুই মেয়াদে দায়িত্ব পালন করেছেন—এমন তথ্যও তাঁর রাজনৈতিক পরিচিতিতে উল্লেখ করা হয়।
২০২৫ সালের একটি প্রকাশিত প্রতিবেদনে তাঁকে বড়লিয়া ইউনিয়ন বিএনপির ‘সাবেক নেতা ও সফল সাধারণ সম্পাদক’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল।তবে প্রশ্ন উঠছে—দীর্ঘদিনের এই সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা এবার নতুন কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে কতটা মূল্যায়িত হবে, নাকি নেতৃত্বের সমীকরণে সামনে আসবে অন্য কোনো নাম?
শাহ আলম চৌধুরীর দাবি, রাজনৈতিক জীবনের বিভিন্ন সময়ে তিনি মামলা, গ্রেপ্তার, হামলা ও রাজনৈতিক হয়রানির মুখোমুখি হয়েছেন এবং এসব চাপের মধ্যেও দলীয় কর্মকাণ্ড থেকে সরে যাননি।বেগম খালেদা জিয়ার বাসভবনের সামনে বালুর ট্রাক রাখার ঘটনাসহ তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন মামলা হওয়ার কথাও তিনি উল্লেখ করেছেন; তবে এসব দাবির সত্যতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট মামলা ও আদালতের নথি যাচাই করা প্রয়োজন।
২০২৫ সালের একটি বড়লিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভার প্রতিবেদনে শাহ আলম চৌধুরীর উপস্থিতি এবং তাঁকে সাবেক নেতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে—যা সাম্প্রতিক সময়েও তাঁর রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার একটি প্রকাশ্য উদাহরণ।
এদিকে ২০২৬ সালে পটিয়ার বিএনপির সাংগঠনিক কাঠামো নিয়েও প্রকাশ্য আলোচনা চলছে; সেপ্টেম্বরের এক সভায় দীর্ঘদিন উপজেলা বিএনপির কমিটি না থাকার বিষয়টি নিয়েও নেতাদের বক্তব্য এসেছে।সব মিলিয়ে বড়লিয়ার তৃণমূলে এখন আলোচনার কেন্দ্রে শুধু একটি পদ নয়—আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে দীর্ঘদিন মাঠে থাকা নেতৃত্ব বনাম নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ।
শাহ আলম চৌধুরীর নিজের দেওয়া ধারাবাহিক তথ্য সত্যতা ও দলীয় নথির সঙ্গে কতটা মেলে, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ যাচাইয়ের বিষয়।
শেষ পর্যন্ত বড়লিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি পদে কে আসবেন, তা নির্ধারণ করবে দলীয় সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত; আলোচনায় থাকা কোনো ব্যক্তির নামই পদ পাওয়ার নিশ্চয়তা নয়।তবে ১৯৮৬ থেকে শুরু করে ছাত্রদল, ১৯৯৯–২০০৪ ইউনিয়ন যুবদল, ২০০৪–২০০৯ উপজেলা যুবদল এবং পরবর্তীতে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক—এই দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলার কারণে মোঃ শাহ আলম চৌধুরীর নাম যে বড়লিয়ার নেতৃত্বের আলোচনায় নতুন করে সামনে এসেছে, সেটি এখন স্থানীয় রাজনীতির অন্যতম আলোচিত বিষয়।