সরকার ঘোষিত ৩ মাসব্যাপী পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধন কর্মসূচিকে সামনে রেখে চট্টগ্রামের দোহাজারী পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের চাগাচর এলাকায় বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬) পৌর প্রশাসক ঝুন্টু বিকাশ চাকমার নেতৃত্বে পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এ কার্যক্রমে অংশ নেন। অভিযানে বিভিন্ন স্থানের ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার, সম্ভাব্য মশার প্রজননস্থল চিহ্নিতকরণ এবং জমে থাকা পানি অপসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
তবে মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা বলছে—মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতার মতো কর্মসূচির সফলতা শুধু একদিনের অভিযান দিয়ে নিশ্চিত করা কঠিন। প্রশ্ন উঠছে, চাগাচরে শুরু হওয়া এই কার্যক্রম কি নিয়মিত তদারকি ও ধারাবাহিক অভিযানে রূপ নেবে, নাকি কয়েকদিন পর আবারও আগের চিত্রে ফিরবে এলাকা?
বর্ষা মৌসুমে বিভিন্ন স্থানে পানি জমে থাকা, পরিত্যক্ত পাত্র, আবর্জনা ও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ মশার প্রজননের সুযোগ তৈরি করতে পারে। ফলে শুধু দৃশ্যমান ময়লা পরিষ্কার নয়, মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল নিয়মিত শনাক্ত ও ধ্বংস করা কতটা হচ্ছে—সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সরকারি কর্মসূচির আওতায় চাগাচরের পাশাপাশি দোহাজারী পৌরসভার প্রতিটি ওয়ার্ডে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধন কার্যক্রম চালানো হবে। একই সঙ্গে কোথায় কোথায় মশার প্রজননস্থল বেশি, কোন এলাকায় পানি দীর্ঘসময় জমে থাকে এবং কোথায় বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ঘাটতি রয়েছে—এসব বিষয় চিহ্নিত করে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযানে পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাশাপাশি স্থানীয় ব্যক্তিরাও উপস্থিত ছিলেন। নাগরিকদের অংশগ্রহণকে এ ধরনের কর্মসূচির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। কারণ পৌর কর্তৃপক্ষ নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করলেও বাড়ি, দোকান ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখার দায়িত্ব নাগরিকদেরও রয়েছে।
বিশেষ করে পরিত্যক্ত প্লাস্টিক, ড্রাম, টায়ার, ফুলের টব কিংবা অন্য কোনো পাত্রে পানি জমে থাকলে তা দ্রুত অপসারণের বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানো জরুরি। একই সঙ্গে আবর্জনা নির্দিষ্ট স্থানে ফেলার অভ্যাস গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
এখন মূল প্রশ্ন—সরকারের ঘোষিত তিন মাসের কর্মসূচি শেষ হওয়ার পরও কি দোহাজারী পৌরসভায় পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধন কার্যক্রম নিয়মিত থাকবে? নাকি কর্মসূচির মেয়াদ শেষ হলেই আবারও জমবে ময়লা-আবর্জনা, তৈরি হবে মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল?চাগাচরে শুরু হওয়া এই অভিযান তাই শুধু একটি পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম নয়; বরং এর ধারাবাহিকতা, নিয়মিত তদারকি এবং বাস্তব ফলাফলই নির্ধারণ করবে দোহাজারী পৌরবাসীর জন্য কর্মসূচিটি কতটা কার্যকর হয়েছে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা—প্রচার বা আনুষ্ঠানিক অভিযানের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে নিয়মিত মাঠপর্যায়ের তদারকি, দ্রুত বর্জ্য অপসারণ, পানি নিষ্কাশন এবং মশার প্রজননস্থল ধ্বংসের মাধ্যমে পুরো পৌর এলাকায় কার্যকর পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থা গড়ে উঠবে।